Wednesday, February 20, 2013

আকাশের ঠিকানায় দেশপ্রেমের চিঠি

চার দশকের বেশি সময় ধরে বুকের ভেতর জমতে থাকা অনুভূতিগুলো গোটা গোটা হরফে ঠাঁই পেল কাগজের চিঠিতে। ডাকপিয়ন বেলুনে চড়ে সেই চিঠি যাবে আকাশের ঠিকানায়, মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদের কাছে। ঘড়িতে বিকেল চারটা ১৩ বাজতেই হাজার হাজার চিঠি উড়েছে আকাশে।
১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর থেকে আজ বুধবার বিকেলে শহীদদের উদ্দেশে লেখা চিঠি বেলুনে ওড়ানো হয়।
শহীদদের কাছে চিঠি পাঠানোর এই অভিনব উদ্যোগের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ আর অকৃত্রিম দেশপ্রেম। ২০১৩ সালে এসেও নতুন প্রজন্ম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করল ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের বিকেল চারটা ১৩ মিনিটকে। ওই দিন ঠিক এ সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই শাহবাগের পাশের রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কাছেই আজকের প্রজন্ম চত্বরের গণজাগরণ মঞ্চ।
মানবতাবিরোধীদের ফাঁসির দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শাহবাগে চলছে নতুন প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ। ওই দিন কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায় প্রত্যাখ্যান করে ব্লগার অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের সদস্যরা কাদের মোল্লাসহ একাত্তরের মানবতাবিরোধী সব অপরাধীর ফাঁসির দাবিতে ওই দিন বিকেলে শাহবাগে অবস্থান নেন। এরপর এই আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ করেন সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ।
টানা ১৫ দিন পার করল এই আন্দোলন। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই প্রতিবাদী স্লোগান, কবিতা আর গানে আগুন ঝরছে। তার পরও কারও চোখে-মুখে নেই এতটুকু ক্লান্তির ছাপ। সেখানে আজ শহীদদের উদ্দেশে লেখা চিঠি বেলুনে ওড়ানো হয়েছে। কাল বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহবাগে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

শহীদদের উদ্দেশে চিঠি
আজ বিকেল চারটা ১৩ মিনিটে রংবেরঙের হাজার হাজার বেলুনে শহীদদের উদ্দেশে লেখা চিঠি উড়িয়েছে শাহবাগের আন্দোলনকারীরা। একেকজন একটি বেলুনে করে শহীদদের উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়েছেন। এ সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে শাহবাগের আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত হয়। মানবতাবিরোধী সব অপরাধীর বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ছিল সবার কণ্ঠে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আন্দোলনকে করেছে আরও উদ্দীপ্ত।
সুরমা আক্তার নামের এক কলেজছাত্রী লিখেছেন,
‘প্রিয় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাগণ, তোমরা কেমন আছ? গণজাগরণ চত্বরে আমাদের এই আন্দোলন নিশ্চয়ই তোমরা দেখতে পাচ্ছ। তোমাদের জীবনের বিনিময়ে পাওয়া এই সোনার বাংলাকে যারা পাকিস্তানি জঙ্গিবাদে ভরিয়ে তুলেছিল, তারা এ দেশের রাজাকার। আমরা এই দেশে, তোমাদেরই সোনার বাংলায় তাদের ফাঁসি দিয়েই ছাড়ব। তোমরা জেনে খুশি হবে যে, তোমাদের মতো আজও অনেক সাহসী যোদ্ধা আছে, যারা বাংলার জন্য প্রাণ দিচ্ছে। রাজীব তেমনই একজন যোদ্ধা। আমরা ১৯৭১ সালে ছিলাম না। কিন্তু আজ আমরা সবাই এক হয়েছি রাজাকারদের ফাঁসির দাবিতে। আমাদের জয় হবেই হবে। ইনশাআল্লাহ।
ইতি তোমাদের উত্তরসূরি সুরমা আক্তার।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কাজল লিখেছেন,
‘প্রিয় শহীদেরা, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা ওই আকাশ থেকে দেখেছি তোমাদের বীরত্ব। এখন ওই দূর আকাশে বসে আমাদের যুদ্ধ দেখ। তোমরা স্বদেশ দিয়েছ, আমরা দেব রাজাকারমুক্ত স্বদেশ।
ইতি কাজল’

অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চারের আহ্বান
রাজধানীর শাহবাগের প্রজন্ম চত্বরে চলমান আন্দোলন নিয়ে জামায়াত-শিবিরের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। আজ বুধবার আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়।
শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চ থেকে বলা হয়, ‘জামায়াত-শিবির ফেসবুক ও ব্লগে এই আন্দোলন নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আপনারা সোচ্চার হোন। তাদের প্রতিহত করুন।’
তারুণ্যের প্রতিবাদ আজ বুধবার ১৬তম দিনে গড়াল। আজও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শাহবাগে বাড়তে থাকে আন্দোলনকারীদের ভিড়। নানা স্লোগানে মুখরিত হয় শাহবাগ।

স্লোগানে স্লোগানে মুখর প্রজন্ম চত্বর
‘তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা’; ‘একাত্তরের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’; ‘সাম্প্রদায়িকতার আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’; ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’; ‘পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা, পাকিস্তানেই ফিরে যা’; ‘বাংলাদেশের মাটিতে জামায়াত-শিবিরের ঠাঁই নাই’; ‘আমাদের ধমনিতে শহীদের রক্ত, এই রক্ত কোনো দিনও বৃথা যেতে দেব না’; ‘আর কোনো দাবি নাই, রাজাকারের ফাঁসি চাই’; ‘জামায়াতে ইসলাম, মেড ইন পাকিস্তান’; ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’, ‘জয় বাংলা’—এসব স্লোগানে মুখর শাহবাগ চত্বর।
সবচেয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘ক-তে কাদের মোল্লা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘ক-তে কামারুজ্জামান, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘গ-তে গোলাম আযম, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘স-তে সাকা, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘ম-তে মুজাহিদ, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘ন-তে নিজামী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’; ‘স-তে সাঈদী, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’ স্লোগান। প্রতিনিয়তই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন স্লোগান।

সংহতি প্রকাশ
আজ বেলা পৌনে দুইটার দিকে শিল্পী সুবীর নন্দী, এন্ড্রু কিশোর, কনকচাঁপা, খুরশীদ আলম, সুজিত মোস্তফা, সুরকার আলাউদ্দীন আলী প্রমুখ প্রজন্ম চত্বরের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
এর আগে ঢাকার ইমপেরিয়াল কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন আজ তারুণ্যের এই প্রতিবাদী সমাবেশের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে।

Friday, February 15, 2013

শাহবাগের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রাজীব খুন

রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আহমেদ রাজিব হায়দার নামের এক ব্লগার খুন হয়েছে। আজ শুক্রবার রাত পৌনে দশটার দিকে তার মৃতদেহ বাসার কাছে রাস্তা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পল্লবী থানা পুলিশ জানিয়েছেন, তাঁকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে।
কাদের মোল্লাসহ একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে শাহবাগের আন্দোলন নিয়ে ব্লগে সক্রিয় ছিলেন আহমেদ রাজিব।
পুলিশ জানায়, নিহত আহমেদ রাজিবের পিতার নাম নাজিম উদ্দিন। বাসা পল্লবীর পলাশ নগরে। রাত নয়টার দিকে রাজিব বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এক ঘন্টা পরে তার মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে থাকে।
মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, নিহতের গালে কেটে ফেলার দাগ রয়েছে। তার মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে ছিল। নিহত ব্লগার বলে তিনি শুনেছেন। নিহত রাজিব পেশায় স্থপতি।
ব্লগারের বিভিন্ন সাইটে দেওয়া তথ্যে দেখা গেছে, নিহত রাজিবের সামহ্যায়ারইন ব্লগে ‘থাবা বাবা’ নামে নিয়মিত ব্লগ লিখতেন। শাহবাগের ঘটনা নিয়েও তিনি ব্লগে সক্রিয় ছিলেন।

পল্লবীতে ব্লগার শোভনকে গলাকেটে হত্যা

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের পলাশনগরে রাজিব হায়দার শোভন নামের এক ব্লগারকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে

শুক্রবার রাতে পুলিশ তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে। তবে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ শেখ নিহত শোভন ব্লগার কি না তা নিশ্চিত করে জানাতে পারেনি।
তবে ব্লগিংয়ের সূত্রগুলো জানায়, শোভন থাবা বাবা এই ছদ্ম নামে আমার ব্লগ নামের একটি সুপরিচিত ব্লগের নিয়মিত ব্লগার ছিলেন।
শাহবাগ আন্দোলনের পক্ষেও নিয়মিত ব্লগ পোস্ট করতেন তিনি।

পল্লবী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আনিছুর রহমান বাংলানিউজকে জানান, পলাশ নগর এলাকায় গলাকাটা লাশ দেখে স্থানীয় লোকজন রাত ১০টার কিছু পর থানা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে।

বর্তমানে থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) ইবাদ আলী ঘটনাস্থলে রয়েছেন। বিস্তারিত আসছে...

আদিত্য আরাফাত ও ইমরান আলী
বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Monday, January 21, 2013

নারী পুরুষের অভিন্ন পোশাক চান তসলিমা

রোববার ‘ফ্রিথটসব্লগ’ নামের একটি ব্লগে এ নিয়ে যুক্তি তুলে ধরেন তিনি।
তসলিমা বলেন, "আজ (১২ জানুয়ারি) ইন্ডিয়াতে এক দল পুরুষ রঙিন স্কার্ট পরে নারী এবং নারীদের অধিকার রক্ষায় শপথ নিয়েছে। আমি সত্যিই এই ২৫ পুরুষকে পছন্দ করি, যারা নারীদের পোশাক পরার সাহস দেখিয়েছে।"
“এশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় পুরুষরা স্কার্ট পরে। স্কটল্যান্ডে পরে থাকে। সুতরাং স্কার্ট পরা অসাধারণ কিছু নয়।স্কার্ট পুরুষদের ফ্যাশনের অনুসঙ্গ দাড়িয়েছে! ২০১৩ সালে লন্ডনে পুরুষদের ফ্যাশন সপ্তাহে স্কার্ট পরিহিত পুরষরা মঞ্চে একটি ইভেন্টে অংশ নেয়।নারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে পুরুষরা নারীদের জুতা পরে।"
তিনি বলেন, "অনেকে বলছে যে, পুরুষরা নারীদের পোশাক পরলেই নারীদের জন্য সমতা নিয়ে আসবে না। যেন পুরুষরা পুরুষদের পোশাক পরলে তা নারীদের জন্য সমতা নিয়ে আসবে! আমরা ভালো করেই জানি, কীসে সমতা আসবে।”
“সত্যিই যদি আমরা একটি সমতার সমাজ চাই, এটা আনতে আমাদেরকে সচেতনভাবে চেষ্টা করতে হবে। এর মধ্যে পুরুষরা নারীদের পোশাক পরা শুরু করতে পারে। পুরুষদের পোশাক পরেতো নারীরা লজ্জিত হয় না! তাহলে এখন থেকে কেন উভয়লিঙ্গ পোশাক নয়?
"আমাদের টি-শার্ট লিঙ্গ নিরপেক্ষ। শাড়ি তা হতে পারে।”
এরপর তসলিমা শাড়ি পরা পুরুষের একটি ছবি দিয়ে বলেন, এই পুরুষটির দিকে তাকান, তাকে চমৎকার লাগছে।
তসলিমা নাসরিন বলেন, নারীরা চুরি পরে। পুরুষরা চুড়ি পরলে সুন্দরই লাগবে। এতে অন্তত ‘যাও চুড়ি পরে থাকো'- এর মতো বাক্যকে পুরুষদের জন্য উচ্চমাত্রার লজ্জাজনক হিসাবে বিবেচনা করা হবে না।

আবুল কালাম আযাদের ফাঁসির আদেশ হয়েছে

চার দশক আগে বাঙালি জাতির মুক্তির সংগ্রামকে দমাতে ব্যাপক গণহত্যা, খুন, ধর্ষণ, লুটপাটের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক রুকন আবুল কালাম আযাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ হয়েছে।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসান নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সোমবার ১১২ পৃষ্ঠার এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালে এটিই প্রথম রায়।
পলাতক আযাদের বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটিতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল প্রধান।
এর মধ্যে বোয়ালমারী থানার কলারন গ্রামের সুধাংশু মোহন রায়, সালথা থানার (সাবেক নগরকান্দা) পুরুরা নমপাড়া গ্রামের মাধব চন্দ্র বিশ্বাস ও ফুলবাড়িয়া গ্রামের হিন্দুপাড়ার চিত্তরঞ্জন দাসকে গুলি করে হত্যা এবং বোয়ালমারী থানার হাসামদিয়া গ্রামে লুটপাট- অগ্নিসংযোগের পর গণহত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।  
এছাড়া ফরিদপুর শহরের খাবাশপুরের রণজিৎ নাথ ওরফে বাবু নাথকে ধরে নিয়ে নির্যাতন, নতিবদিয়া গ্রামে দুই নারীকে ধর্ষণ এবং সালথা থানার উজিরপুর বাজারপাড়া গ্রামের এক হিন্দু তরুণীকে অপহরণ ও নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধ প্রমাণিত হলেও অন্য চার অভিযোগে ফাঁসির আদেশ হওয়ায় এ তিন ঘটনায় নতুন কোনো শাস্তির আদেশ দেয়নি আদালত।
তবে আলফাডাঙ্গা থেকে ধরে এনে আবু ইউসুফ নামের এক ব্যক্তির ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে না পারায় এই অভিযোগ থেকে আযাদকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
আযাদ মামলার শুরু থেকেই পলাতক থাকায় এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে না বলে জানিয়েছেন তার পক্ষে ট্রাইব্যুনালের নিয়োগ করা আইনজীবী মো. আবদুস শুকুর খান।
ট্রাইব্যুনালের রেজিষ্ট্রার এ কে এম নাসিরউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, রায়ের এক মাসের মধ্যে আপিল করার সুযোগ থাকলেও আত্মসমর্পণ না করলে বা ধরা না পড়লে আযাদ সে সুযোগ পাবেন না। 
ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী আযাদের ফাঁসির আদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শককে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাইদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “ঐতিহাসিক এই রায়ে জাতির আশা পূরণ হয়েছে।” 
২০০৯ সালের ২৫ মার্চ এই বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পর দুই ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত মোট নয়টি মামলার কার্যক্রম শুরু হয়, যার মধ্যে আযাদের মামলার রায় হলো এবং আরো দুটি মামলা রায়ের পর্যায়ে রয়েছে।